জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সফরসঙ্গিসহ তারেক রহমানকে বহনকারি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-টি জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের বেশ কিছুসময় আগেই বাইরে পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচিতে থাকা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীগণকে সরে যেতে হয়। কারণ, বিএনপির স্বাগত সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ-সমাবেশের অনুমতি ছিল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু ফ্লাইট অবতরণ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টারও পর। বিকেল ৩টা থেকেই উভয় পক্ষের শতশত নেতা-কর্মী নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে ৮ নম্বর টার্মিনালের বাইরে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-নিউইয়র্কে স্বাগত-শুভেচ্ছা’ এবং ‘গো ব্যাক তারেক’ লেখা ব্যানার হাতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা অবস্থান করেন। গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে স্লোগানও ধরেন তারা।
তবে পারমিট অনুযায়ী সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় সকলকেই ঐ স্থান ত্যাগে বাধ্য করে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মীরা। এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন-‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন ভ’ইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা আতিকুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি এবং সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ, বদরুল হক আজাদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ক্ষোভ জানাতে জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।
অপরদিকে, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বিশাল ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে শতশত নেতা-কর্মী ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ স্লোগানে মুখরিত ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিও বহন করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ডা. মাসুদুল হাসান, সামাদ আজাদ, ইমদাদ চৌধুরী, রফিকুর রহমান রফিক, নুরুল আবসার সেন্টু, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, সেবুল মিয়া, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হৃদয় মিয়া প্রমুখ।
এদিকে, সাড়ে ৬টার পর এক নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি গেটে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
জেএফকে এয়ারপোর্টে যুবলীগ-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। সাথে ছিলেন সহধর্মীনি ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের করিডোরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম শিপলু। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের কর্মসূচিতে যোগদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলেই অবস্থান করবেন।
হোটেল লবিতে কোলাকুলি তারেক রহমানের সাথে গোলাম ফারুক শাহীন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।